১৪ই জুলাই, ২০২০ ইং , ৩০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ




৮ এপ্রিল, ২০২০ , ০৬:৫৯ আপডেট: ৮ এপ্রিল, ২০২০ ,০৬:৫৯

ভয়াল এক সময় পার করছে সারা বিশ্ব। সারা বিশ্বের এখন সবচেয়ে বড় সংকট করোনাভাইরাস। কী করে পৃথিবীর মানুষ এই সংকট মোকাবিলা করবে, চলছে তারই চেষ্টা। আমাদের বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। ধর্ম, বর্ণ, দেশ, জাতি—এখন সব একাকার। সবার প্রার্থনা একটাই, করোনা থেকে মুক্তি।

আমি এই দুর্যোগকে মনে করি প্রকৃতির প্রতিশোধ। আমরা মানুষেরা সৃষ্টির সেরা জীব—এ কথা আমি আর বিশ্বাস করি না। আমরা এই পৃথিবীর ওপর যত অত্যাচার করেছি, আমরা প্রকৃতিকে এত ধ্বংস করেছি যে করোনা তারই প্রতিশোধ। ব্যক্তিস্বার্থ আর ক্ষমতার লড়াইয়ে যখন সারা পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ উন্মত্ত, ঠিক তখনই এই করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীকে একটা উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য আবির্ভূত হয়েছে। এতক্ষণ যে কথাগুলো বললাম, সেটা আসলে আমার নিজস্ব আবেগের কথা। আসল সত্যটা হলো এই যে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ যদি আমরা রোধ করতে না পারি, তাহলে আমাদের আরও ভয়াবহ বিপদে পড়তে হবে।

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও করোনা মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এই করোনা যুদ্ধে যদি আমরা জয়ী হতে না পারি, তাহলে দেশ, জাতি, সভ্যতা—সবকিছু ধ্বংস হয়ে পড়বে। করোনার সংক্রমণ রোধ করা কিন্তু কঠিন কোনো কাজ ছিল না। কিছু নিয়ম মেনে চললেই, অতি সহজেই এই মরণঘাতী ভাইরাস করোনাকে রুখে দেওয়া যেত। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ আমরা সেই নিয়মগুলো মানছি না। অধিকাংশ মানুষ অসচেতন। আফসোস অনেকে সবকিছু জেনেও নিয়ম ভঙ্গ করছে।

একটি নাটকের দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীতএকটি নাটকের দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীতজাতি হিসেবে আমরা যে এখনো সভ্য হতে পারিনি, করোনাভাইরাসের এই সময়টায় আবার সেটা প্রমাণ করছে। অতি প্রয়োজন ব্যতীত আমাদের কাউকে যখন বাড়ি বা ঘরের বাইরে যাওয়া সরকারিভাবে নিষেধ করা হয়েছে, তখন আমরা অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাইরে বের হচ্ছি। যেকোনো জমায়েতে গেলে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়বে জেনেও আমরা ধর্মীয় থেকে শুরু করে নানান জমায়েতে উপস্থিতি হচ্ছি। নিজেদের মৃত্যুকে নিজেরাই সাদর সম্ভাষণ জানাচ্ছি। নিয়ম না মেনে আমরা শুধু নিজের ক্ষতিই করছি না, আত্মীয়-পরিজন, সবার জন্য বিপদ ডেকে আনছি। এই সংকট মোকাবিলা করার জন্য দেশের সব মানুষকে একযোগে করোনা সচেতন হতে হবে। সব নিয়ম মানতে হবে। নিজের স্বার্থে, পরিবারের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে, যার যার ঘরে থাকতে হবে। তাহলেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ থামানো যাবে। সরকারকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সাহায্য করতে হবে।

ঘরে থাকতেও আমাদের আলস্য, এই সময়টাতে পরিবারের সঙ্গে থেকে, নিজের মতো করে উপভোগ করা যেতে পারে। সন্তানকে সময় দেওয়া, বাসার ভেতর থেকে গান শোনা, নাটক বা সিনেমা দেখে সময়টা কাটানো যেতে পারে। একটু পড়ালেখা করা, ঘরে বসেই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা—মোটকথা সময়টাকে সুন্দর করে পার করা। এ ছাড়া কোনোভাবেই করোনা রোধ সম্ভব নয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে শ্রমজীবী মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর—এদের সবচেয়ে বড় সংকট চলছে। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষগুলোকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাহলেই হয়তো এই সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব। তবে সবচেয়ে বড় কথা, সচেতনতা। আমরা সবাই সচেতন হলেই এই মরণঘাতী ভাইরাস করোনাকে আমরা রুখে দিতে পারি। তা না হলে মৃত্যুর মিছিল শুধুই বাড়বে। আপনি, আমি, আমি, আমরা কেউই বাদ যাব না সেখান থেকে। একমাত্র সচেতনতাই পারে আমাদের বাঁচাতে।